কবিতাঃ লেলিনের ব্যবচ্ছেদ

কবিতাঃ লেলিনের ব্যবচ্ছেদ
কবিতাঃ লেলিনের ব্যবচ্ছেদ
শব্দরুপঃ হিমেল

গতকাল দুপুরে পেট্রোগ্রাদের কোন এক সরাইখানাতে-
বিক্রি হয়ে গেছে বাসি পঁচা লেলিনের দেহ- নিলামে।
আমি ঐ মোহক্ষনে ছিলাম সেই সরাইতে, বুক চিতেয়ে-
দেখেছিলাম মরা বিপ্লবীর লাশ বিক্রি হয় কিভাবে।

লেলিনের কানটা নিয়েছে বুলগেরিয়ার এক শিল্পপতি,
টাকার, ডলারের তো অভাব ছিল না। বিপ্লবও কিনে নিয়েছে।
চুল গুলো অস্ট্রিয়ার এক নাম না জানা মহিলা কিনেছে-
সে বলেনি- চুল কি কাজে লাগে? চুল তো পঁচে না। তাই হয়তো!

চোখ দুটো আমেরিকার এক গাড়ি ব্যবসায়ী নিয়েছে
পথ না চলতে পারা গাড়ির হেড লাইট হিসাবে-
বিপ্লবের গাড়ির আলো তো কবেই নিভে গেছে।

ত্বক নিয়েছে জার্মান ভদ্রলোক। সে নাকি খুবই সৌখিন,
ঘরে টাঙ্গানো বাঘের চামড়ার সাথে ঝুঁলিয়ে রাখবে।
বিপ্লব তো কবেই ঝুঁলে গেছে চামচামির দেয়ালে।

দাঁত নিয়েছে আর্জেন্টিনার এক এন্টিক কালেক্টর-
মরা বিপ্লবীর দাঁত নাকি উঠে কামড়ায় আবার,
এমনটাই ভদ্রলোক বিশ্বাস করে।

হাত দুটো নিয়েছে রাশান সুইপার। বলেছে কমোড পরিস্কারে লাগে,
পা নিয়েছে জাপানের কর্পোরেট। চলার গতি পাবে।

লিঙ্গটা নিয়েছে গ্রীসের এক ভদ্রমহিলা- এইডস প্রতিরোধী র‍্যালীতে দেখাবে,
ছিনার হাড় দু ভাগ করে নিয়েছে হাঙ্গেরী আর মঙ্গোলিয়ার দুই ব্লিয়ার্ড খেলুড়ে।

লেলিন তোমার সব বিক্রি হয়ে গেছে। সব সব সব-
পড়ে আছে ব্যার্থ বিপ্লবের আনন্দে রাশপুটিনদের উৎসব।

সিগমুন্ড ফ্রয়েড বিশ্লেষন করো-
মরা বিপ্লবীর ব্যবচ্ছেদ ভালো এন্টিক হবে না?

Leave a Comment: