Category Archives for Blog

আমরা আমাদের আদর্শ ও চরিত্র কে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর আদর্শ মত গড়ে তুলি

অর্থ,বংশ,ও আভিজাত্য উত্তম নয়,
চরিত্র ও আদর্শই উত্তম।
********************
হাকিম লুকমানের একটি প্রসিব্ধ ঘটনা,একদিন তাহার মালিক একটি ছাগল দিলেন আর বলিলেন যে,
ইহা জবাই করিয়া সেই অংশ টুকু নাও যাহা সব চাইতে উত্তম। সুতারাং ছাগল জবাই করিয়া কলিজা
ও জিহব্বা বাহির করিয়া মালিকের সামনে পেশ করেন।
দ্বীতিয় দিন পুনরায় একটি ছাগল দিয়া বলিলেন
ইহা জবাই করিয়া সেই অংশ টুকু নাও যে টুকু সব
থেকে মন্দ। তিনি সেটিকেও জবাই করিয়া তাহার
কলিজা ও জিহব্বা বাহির করিয়া মালিকের সামনে
পেশ করিলেন।
ইহাতে মালিক আশ্চায্য হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন,
একই অংশ ভাল এবং মন্দ হই কিভাবে। ইহা কি
করিয়া সম্ভব?
তিনি উত্তর দিলেন যে কলিজা এবং জিহব্বা উভয়টিই উত্তম বস্তু। কিন্তু ভাল মন্দের স্বীকৃতি লাভ
হয় চরিত্র ও আদর্শের কারনে। যাহার চরিত্র ও আদর্শ রাসুলুল্লাহ সঃ এর অনুকরনে হয়, তাহাই উত্তম।
এবং যাহার আদর্শ ও চরিত্র রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর আদর্শের পরিপন্থী হয় তাহাই নিঃকৃষ্ট

হাদিসঃ রাসুলুল্লাহ সঃ বলেন, মানুষের শরিরের
অভ্যন্তরে একটুকরা গোশত রহিয়াছে। উহা যদি পবিত্র হয়, তাহলে সমস্ত শরীরই পবিত্র থাকে। আর
যদি উহা কলুসীত হয় সমস্ত শরীরই কলুসীত হয়।
আর উহাই হইতেছে ক্বলব বা অন্তকরন।

হজ্জ ইসলামের সরিয়াত মতে কাদের ওপর ফরয জেনে নিই

ইসলামের পাঁচটি বুনিয়াদের মধ্যে হজ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। হজ্জ দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত। আল্লাহর সন্তোষটি লাভের আশায় হজ্জের মাসের নির্ধারিত  দিনসমূহে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বায়তুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ ও সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ যিয়ারত এবং জিলহজ্জ মাসের নয় তারিখে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়ে নিদিষ্ট পদ্ধতিতে ইবাদত করাকে হজ্জ বলে। আর্থিকভাবে সামর্থবান ব্যক্তিদের উপর জিবনে একবার হজ্জ করা ফরজ।

হজ্জ পালন করা

ইসলাম মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম ইসলাম মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম। আল্লাহ তাআলা সৃষ্টীকর্তা হিসেবে তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টী মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য বিধি বিধান দিয়েছেন। সৃষ্টীকর্তা হিসেবে তিনি জানেন মানুষের জীবন যাপনের জন্য বিধি বিধান কেমন হওয়া উচিত। তাই, তিনি মানুষের ইহকাল ও পরকালে মুক্তির জন্য বিধান দিয়েছেন। উক্ত বিধি-নিষেধ পালনের মাধ্যমে মানুষ ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি লাভ করতে পারে। আল্লাহ তাআলা মানুষ সৃষ্টী করার সময়ই তাকে সেই সহজাত প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টী করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স.) বলেন-প্রতিটি শিশুই সহজাত প্রকৃতি তথা ইসলামের উপর জন্মগ্রহন করে। কিন্তু তাদের পিতা মাতার কারণে ইহুদির সন্তানেরা ইহুদি ধর্মে, খ্রিসটানরা ধর্মে এবং অগ্নি পুজকরা মাজুসী ধর্মে দীক্ষিত হয়ে থাকে।

 (আবু দাউদ, তিরমিযি) মানুষের মনের মধ্যে ইসলামি

ফিতরাত থাকার কারণেই সে নিজেকে অসীম শক্তির কাছে সঁপে দিতে চায়।


ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি

ইসলাম মানব জাতির ইহকালীন ও পরকালীন উৎকর্ষ সাধনের জন্য শিক্ষাকে অপরিসীম গুরুত্ব দিয়েছে । আল-কুরআনের প্রথম বাণি ইকরা অর্থাৎ পড় ।
এ থেকে ইসলামে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার গুরুত্ব অনুধাবন করা যায় । মহানবি (স.)
সাহাবিদের শিক্ষার জন্য মক্কায় দারুল আরকাম নামক শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করেন এবং মসজিদে নববি মুসলমানদের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন । খুলাফায়ে রাশেদিনের আমলেও মুসলমানগণ শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখেন ।
উমাইয়া ও আব্বাসী শাসনামলে মুসলিম মনীষীগণ জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখেন ।
রসায়নশাস্তে , ভূগোলবিদ্যা, চিকিতসাবিদ্দা, বিজগনিত, পাটিগণিত, জ্যামিতি, সাহিত্য, ইতিহাস ও জ্যোতিবিজ্ঞান প্রভৃতি শাস্তে মুসলমানগণ বিস্ময়কর অবদান রাখেন । মুসলমানদের শিক্ষার বুনিয়াদ অতি শৈশবকালে  মকতব থেকে শুরু হয় ।
পির-মাশায়িখ, সুফী সাধক ও ইসলাম প্রচারকদের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার হয়েছে ।  তাঁরা এদেশে অসংখ্য মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। আলোচ্য ইউনিটে- নিচের পাঠ্যসমূহ অধ্যয়ন করা হবে।

ইসলামের পরিচয়

ইসলাম আল্লাহ তাআলার একমাত্র মনোনীত ধর্ম। ইসলাম আরবি সব্দ। এর অর্থ আত্নসমপণ করা, আনুগত্য প্রকাশ করা, শান্তির পথে চলা, মুসলমান হওয়া।
বিশ্বজগতের সৃষ্ঠীকর্তা, পালনকর্তা, জিবনদাতা ও  মৃত্যুদাতা  আল্লাহ তাআলার কাছে বিনা দ্বিধায় আত্মসমপণ করে তার আদেশ নিষেধ মেনে চলা। তাঁর দেয়া বিধান অনুসারে জীবন যাপন করা। আর যিনি ইসলামের বিধান অনুসারে জীবন যাপন করেন তিনি হলেন মুসলিম।

ইসলাম শান্তির অগ্রযাত্রা

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা


হযরত আদম (আ) থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত পৃথীবীতে অসংখ্য নবি রাসূল আগমন করেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ যুগে নিজ নিজ জাতি ও দেশের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ও গুণী বেক্তি ছিলেন। আল্লাহ তাঁদেরকে শুধু দ্বীন প্রচারের জন্যই প্রেরণ করেননি। তাঁদের অনেকেই আবার জগত বিখ্যাত ও ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন। প্রত্যেক নবি ও রাসূলের শরিয়াত ভিন্ন ভিন্ন থাকলেও দ্বীন ছিল ইসলাম। এই দ্বীন ইসলাম হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। হযরত মুহাম্মাদ (স.) আখেরি নবি ও রাসূল। ইসলাম হচ্ছে সকল নবি রাসূলের শরিয়াতের নির্যাস। আল্লাহ তাআলা বলেন-

আমি সকল বিষয়ের সুস্পষ্ট বিবরণ দিয়ে এই গ্রন্থখানা অবতীর্ণ করেছি। সূরা(আন-নাহল ১৬. ৮৯) এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট করা হয়েছে যে , মানব জীবনে যা কিছু প্রয়োজন তার সব কিছুর নীতি নির্ধারণী বর্ণনা আল কুরআনে রয়েছে । মহানবি (স.) এর পবিত্র জীবনাদর্শ হচ্ছে আল কুরআনের ব্যাখ্যা। আল্লাহ তাআলা ইসলামকে পরিপূর্ণতা দান করে আয়াত নাযিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ পূর্ণ করলাম এবং দ্বীন হিসেবে ইসলাম কে তোমাদের জন্য মনোনীত করলাম। (সূরা আল মায়িদাহ-৫. ৩)

ইসলাম শান্তির ধর্ম

ইসলাম শান্তি ও সম্প্রতির ধর্ম। ইসলামে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষ সমান। ইসলামে কোন শ্রেণি বিভেদ নেই। আরব, অনারব, সাদা,কালো , ধনি- দরিদ্রের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। ঝগড়া- বিবাদ, গালি-গলাজ , চোগলাখুরি করা থেকে বিরত থাকার  নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। ইসলামে কোন কঠোরতা নাই।

আল্লাহ তাআলা সকল কাজ মানুষের সামর্থ্যের  মধ্যে রেখেছেন। ইসলামে কোন কিছু অস্পষ্ট নয় । আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য সব কিছু স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আল-কুরআন ইসলামি শরিয়াতের মূল উৎস। ইসলাম একটি  পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা তাই ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহন করা সকল মানুষের জন্য কল্যাণময়য়।

শিক্ষা বিস্তারে মহানবি (স.) অবদান

শিক্ষা বিস্তারেও বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব

হযরত মুহাম্মাদ (স.) ছিলেন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তিনি নবুওয়াত লাভের পর থেকে তাঁর গৃহকে শিক্ষালয় হিসেবে ব্যবহার করেন। তাঁর স্ত্রি হযরত খাদিজা (রা) ও হযরত আয়েশা (রা) ছিলেন আদর্শ শিক্ষক। মহানবি (স.) এর মৃত্যুর পর তার প্রবিত্র স্ত্রিগণের গৃহ ছিল নারীদের শিক্ষা কেন্দ্র। হযরত হাফসা (রা) ও উম্মে সালমা (রা) নারী শিক্ষাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

শিক্ষা বিস্তারে মহানবি (স.) এর পদক্ষেপ

  • নবুওয়াতের প্রাথমিক পর্যায়ে মক্কার স্থানে হযরত আরকাম (রা.) এর বাড়িটি বিদ্যা শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত হয়। এখানে মুসলিমগণ একত্রিত হয়ে শিক্ষা লাভ করতেন। তাছাড়া মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (স.) ইসলাম গ্রহণকারী নও মুসলিমদের শিক্ষা দানের জন্য গোত্রে গোত্রে শিক্ষক সাহাবিদের পাঠাতেন। আর সেখানে সাহাবিদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষায়তন গড়ে উঠত।
  • ​মক্কা থেকে হিজরতের পর তিনি মসজিদে নববিকে শিক্ষার মহাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন। তিনি মসজিদে নববির প্রাঙ্গণে সুফ্ ফা নামে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তলেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু মানুষ এখানে শিক্ষা গ্রহণের জন্য আসতেন। অনেক সাহাবি সুফ্ ফা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন ছাত্র ও শিক্ষকের ভূমিকায় ব্যাপৃত ছিলেন । (মহানবি স.) নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষা বিস্তারে এত গুরুত্ব দিতেন যে, বদরের যুদ্ধে শিক্ষিত যুদ্ধে বন্দীদের মুক্তিপণ নিধার্য করে ছিলেন কয়েক জন নিরক্ষর মুসলিমকে শিক্ষাদান করার মাধ্যমে।
  • ​হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর শিক্ষার প্রভাবে ও প্রত্যক্ষ প্রেরণায় আরবরা এক সুসভ্য শিক্ষিত জাতিতে পরিণত হয়।
মকতবের প্রয়োজনীয়তা

সন্তানদেরকে মকতব শিক্ষা কেন অতি প্রয়োজন জেনে নিই

আমাদের সন্তানদেরকে মকতব শিক্ষা কেন অতি প্রয়োজন তারিই ধারাবাহিকতা নিচে দেওয়া হল:

মকতবের কার্যাবলী

মকতবে ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা দেওয়া হয়। এই মকতবে কালিমা,সালাত,সাওম,হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি মৌলিক ইবাদত আদায় করার পদ্ধতি শিশুদেরকে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয় । মকতবেই শিশুদেরকে সালাতের নিয়ম কানুন, আহকাম-আরকান, ওয়াজিব,সুন্নাত,ইত্যাদি শিক্ষা দেওয়া হয়। শৈশব থেকেই শিশুদেরকে মৌলিক আকিদা-বিশ্বাস ও ইমান  সম্পর্কীত জ্ঞান অর্জন করতে হয়। ইমান আকিদা বিশ্বাস সংকক্রান্ত  শিক্ষা কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে এই মকতবই দিয়ে থাকে। তাছাড়া প্রাথমিক মাসআলা-মাসায়িল সংকক্রান্ত বিষয়াদি এই মকতব থেকেই শিক্ষা দেওয়া হয়। সুতরাং মকতবের কার্যাবলী মুসলিম জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

মকতবের প্রয়োজনীয়তা

মুসলিম জীবনে মকতবের প্রয়োজনীয়তা খুবই বেশি। মকতব মুসলিম জীবনে ইমানের যে বীজ বপন করে। তা-ই একদিন মহীরুহ ধারণ করে।  কাজেই মুসলিম সমাজ সকল যুগেই মকতব প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করে আসছে। শিশুদের কোমলমতি  মন হলো কাদা মাটির মতো।  ইসলামের পথে চলার জন্য শিশুদের মকতবের শিক্ষাই বেশি কার্যকার ও ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। মানুষের শারিরিক,মানসিক ও নৈতিক গুণাবলীর উন্নয়নই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। একজন শিশু মকতবের শিক্ষার মাধ্যমে এ সকল মানবীয় গুণাবলী অর্জন করতে পারে। মকতবে পড়ালেখার মাধ্যমে শিশুর মনে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়। কাজেই মকতবের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বলা যায় যে, মকতবই শিশুদের ইমান ও নৈতিক ভীত গঠনের উপযুক্ত স্থান।

অতি অল্প আমলে জান্নাত যাওয়া সম্পর্কে গুরুত্বপুর্ণ হাদিস

আসুন আমরা একটু মনযোগী হয়ে অতি অল্প আমলে জান্নাত যাওয়া সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপুর্ণ হাদিস সম্পর্কে খেয়াল করে পড়ে নিই।

অল্প আমলে জান্নাত যাওয়া সম্পর্কে গুরুত্বপুর্ণ হাদিসসমূহ

বিসমিল্লাহ- ওয়াসসলাতু ওয়াসসালামু আ’লা রসুলিল্লাহ
​আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন : ১ দিন আমরা রাসুল (সাঃ) এর কাছে বসেছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি বললেন : এখন তোমাদের এখানে একজন জান্নাতি মানুষ প্রবেশ করবেন।তখন একজন আনসারি মানুষ প্রবেশ করলেন, যার দাঁড়ি থেকে ওযুর পানি পরছিল এবং তার বাম হাতে তার জুতাজুড়া ছিল।
পরের দিনও রাসুল (সাঃ) একই কথা বললেন এবং একই ব্যক্তি প্রবেশ করলো। তৃতীয় দিনেও রাসুল (সাঃ) প্রথম দিনের মতো আবারও বললেন এবং আবারও একই ব্যক্তি প্রবেশ করলো।
তৃতীয় দিনে রাসুল (সাঃ) মজলিস ভেঙ্গে চলে গেলে আব্দুল্লাহ ইবনু উমর উক্ত আনসারী ব্যক্তির পিছে পিছে যেয়ে বলেন, আমি আমার পিতার সাথে মন কষাকষি করেছি এবং ৩ রাত বাড়িতে যাব না বলে কসম করেছি। সম্ভব হলে এই কয় রাত আপনার কাছে থাকতে দিবেন কি? তিনি রাজি হন।
(আব্দুল্লাহর ইচ্ছা হলো ৩ রাত তার কাছে থেকে তার ব্যক্তিগত ইবাদত জেনে সেই মতো আমল করা, যেন তিনিও জান্নাতি হতে পারেন)।তিনি ৩ রাত তার সাথে থাকেন, কিন্তু তাকে রাত্রে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করতে বা বিশেষ কোন নফল ইবাদত পালন করতে দেখেন না। তবে ৩ দিনের মধ্যে তাকে শুধুমাত্র ভালো কথা ছাড়া কারো বিরুদ্ধে কোন খারাপ কথা বলতে শোনেননি।

আব্দুল্লাহ বলেন, আমার কাছে তার আমল খুবই নগণ্য মনে হতে লাগলো। আমি বললাম: দেখুন, আমার সাথে আমার পিতার কোন মনমালিন্য হয় নি। তবে আমি পরপর ৩ দিন রাসুল (সাঃ)-কে বলতে শুনলাম এখন ১ জন জান্নাতি মানুষ আসবেন এবং ৩ বারই আপনি আসলেন।এজন্য আমি আপনার আমল দেখে সেইমতো আমল করার উদ্দেশে আপনার কাছে ৩ রাত কাটিয়েছি, কিন্তু আমি আপনাকে বিশেষ কোন আমল করতে দেখলাম না! তাহলে কি কর্মের ফলে আপনাকে রাসুল (সাঃ) জান্নাতি বললেন?

তিনি বললেন, তুমি যা দেখেছ এর বেশি কোন আমল আমার নেই, তবে আমি আমার অন্তরের মধ্যে কোন মুসলমানের জন্য কোন অমঙ্গল ইচ্ছা রাখি না এবং আমি কোন কিছুর জন্য কাউকে হিংসা করি না। তখন আব্দুল্লাহ বলেন, এই কর্মের জন্যই আপনি এই মর্যাদায় পৌঁছাতে পেরেছেন। (মুসনাদে আহমাদ- হাদিস সহিহ)

Enter your text here...

গিটারের কর্ড থেকে

গিটারের কর্ড থেকে

কবির কল্লোল

 

জীবনকে আমি গিটারের মতো বাজিয়ে দেখেছি
হেয়ালী সুরের হারমোনিয়ামে রাখিনি আঙুল
কারো কৃপাহীন ভুল রাস্তায় হেঁটেছি একাই
পিক ছাড়া হাতে- বৃদ্ধাংগুলে রক্ত ঝরেছে
যৌবন তবু গিটারের তারে ভাসিয়ে দিয়েছি।

পুকুরের মতো শান্ত শীতল চৌঘেরা জলে
মুখ ধুয়ে আমি চুল আঁচড়িয়ে আয়না দেখিনি
নদী ভালবেসে খরস্রোতা খুব একলা চলেছি
শ্যাওলাপাড়ার আঁশটে আঁচড়ে ছিঁড়ে গেছে দেহ
ছেঁড়া দেহ তবু একমুঠো ঘরে আটকে রাখিনি।

জীবনকে আমি নদীর গিটারে বাজিয়ে দেখেছি।

মনের স্বচোখে পৃথিবী দেখার তিয়াসা আমার
নির্ভরতার চাঁদের আঙুলে বাঁধেনি প্রণয়
আমি আর এই সাড়ে তিন হাত সরলমাপনী
দশমাথা থেকে সব ভুলো পথে রাস্তা মেপেছি
কারো প্রলোভন নির্দেশনায় হাঁটিনি যুগল।

নদীর গিটারে পালহীন আমি নৌকাবাদক।

তুমি আর আমি হাতে হাত রেখে- আমি আর তুমি
এসব পুরোনো মানচিত্রের ছক বাধা সুর
এসব লেজুড়ে মিথ্যে প্রলাপ, ভুল সারকথা
লিকারে প্রচুর হেমলক খেয়ে বুঝেছি বিশদ
নামের বানানে একলা থাকার ইতিহাস লেখা।

হেমলক চায়ে ঠোঁট রেখে আমি লিখেছি লিরিক।

জীবনকে আমি গিটারের মতো বাজিয়ে দেখেছি
জীবনকে আমি বিষের গেলাসে মিশিয়ে খেয়েছি।

আমিও ঈশ্বরের মতো একা ]

BD Govt Job Circular Official Facebook Page

Please connect all time with us on Facebook : https://www.facebook.com/bdgovtjobspreparation/

Don’t Forget to like our Facebook page Please.

প্রিয় বন্ধু, ভাই ও বোনের জন্য ফেসবুক ও টুইটারে শেয়ার করুণ আমাদের পেজটি।

Thank you

 

চেতনা, গৌরব আর ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি

চেতনা, গৌরব আর ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি

najim

একুশে ফেব্রুয়ারি জাতির ঐতিহ্যময় ও গৌরবের ভাষা আন্দোলন।এর মূল্যবোধ এবং স্বাধীনতার উপর তার প্রকৃষ্ট প্রভাব অনস্বীকার্য। কেবল তাই-ই  নয় ভাষার জন্য আন্দোলন করে এরূপ জীবন উৎসর্গ বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।

একুশে ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের জনগনের গৌরবজ্জ্বল একটিদিন।এটি আমাদের কাছে ঐতিহ্যময় শহীদ দিবস।

বিগত একদশক ধরে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও সুপরিচিত সারাবিশ্বে।

জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষনাকরায় বাঙালি জাতির জন্য এই দিনটি এক গর্ব বয়ে এনেছে সুনিশ্চিত ভাবেই।

১৯৫২সালের এই দিনে (৮ফাল্গুন, ১৩৫৯) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন দেশপ্রেমিক তরুণ ভাষার জন্য শহীদ হন। তাই এদিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে মহান মহীমায়।

যদিও এর শুরুটা হয় ১৯৪৭ সাল থেকে। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উর্দুকেই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা দেওয়া হয়। সে থেকে বিভিন্ন আন্দোলনের পরিক্রমা থেকে তা গড়াতে গড়াতে ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি The Basic Principles Committee of the Constituent Assembly of Pakistan পুনরায় উর্দুকেই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসাবে এ্যাসেম্বলীতে চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রদান করা হয়।২৭শে জানুয়ারি ঢাকা সফররত পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্ণর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিন পল্টন ময়দানের সমাবেশে ঘোষণা করেন কেবল মাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। সাথে সাথে সমাবেশস্থলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শ্লোগান ওঠে “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই”। এই বক্তব্য সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।২৮শে জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। এই সমাবেশ থেকে নাজিমুদ্দিনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা ছাড়াও পূর্ব-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীপরিষদকে পশ্চিম পাকস্তানের হাতের পুতুল হিসাবে অভিহিত করা হয়।৩০শে জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিনের বক্তব্য ভাষা আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দান করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এইদিন সর্বাত্মক ধর্মঘট পালিত হয়।একই দিন মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভাসানীর নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদের পাশাপাশি আওয়ামী মুসলিম লীগের সরাসরি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৩১শে জানুয়ারি ভাসানীর সভপতিত্বে পূর্ব-পাকিস্তানের সকল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবিদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় । এই সম্মেলন থেকে কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় । সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারী সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে সাধারণ ধর্মঘট আহবান করে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রদের মিছিল, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকার নবাবপুর রোড। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের ডাকে ঢাকা শহরের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বত:স্ফূর্ত ধর্মঘট পালিত হয়। ছাত্ররা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার দাবীতে তখনকার সময়ের সবচেয়ে বড় একটি মিছিল নিয়ে রাজপথ প্রদক্ষিণ করে।১৮ই ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার ২১ই ফেব্রুয়ারি ডাকা সাধারণ ধর্মঘটের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সকল সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ২০শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ১৪৪ ধারা জারির পরিপ্রেক্ষিতে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এর উদ্যোগে আবুল হাশিম এর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় । সভায় উপস্থিত সদস্যগণ ১৪৪ ধারা ভংগ করার ব্যাপারে নেতিবাচক
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সভার একটি বড় অংশ ১৪৪ ধারা ভংগের ব্যাপারে মত দিলেও অনেকেই এতে সহিংসতার আশঙ্কায় বিপক্ষে মত দেন ।

২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিমনেশিয়াম মাঠের পাশে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত) গেটের পাশে ছাত্র-ছাত্রীদের জমায়েত শুরু ।

সকাল ১১টায় কাজী গোলাম মাহবুব, অলি আহাদ, আব্দুল মতিন, গাজীউল হক প্রমুখের উপস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ শুরু । সমাবেশে ১৪৪ ধারা ভংগের ব্যাপারে ছাত্র নেতৃবৃন্দ এবং উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয় । আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক সভায় উপস্থিত হয়ে ছাত্রদের ১৪৪ ধারা না ভাঙ্গার ব্যাপারে যুক্তি প্রদর্শন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এস এম হোসেইন এর নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষক সমাবেশ স্থলে যান এবং ১৪৪ ধারা ভংগ না করার জন্য ছাত্রদের অনুরোধ করেন ।

বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টা উপস্থিত ছাত্রনেতাদের মধ্যে আব্দুল মতিন এবং গাজীউল হক ১৪৪ ধারা ভংগের পক্ষে মত দিলেও সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হন । এ অবস্থায় উপস্থিত সাধারণ ছাত্ররা স্বত:স্ফূর্তভাবে ১৪৪ ধারা ভংগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং মিছিল নিয়ে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের অন্তর্গত) দিকে যাবার উদ্যোগ নেয় । এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ এবং গুলি বর্ষণ শুরু করে । গুলিতে ঘটনাস্থলেই আবুল বরকত (ঢাবি এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর মাষ্টার্সের ছাত্র), রফিকউদ্দিন আহমদ, এবং আব্দুল জব্বার নামের তিন তরুণ মৃত্যু বরণ করেন । পরে হাসপাতালে আব্দুস সালাম যিনি সচিবালয়ে কর্মরত ছিলেন মৃত্যু বরণ করেন । অহিউল্লাহ নামে ৯ বছরের একটি শিশুও পুলিশের গুলিতে মারা যায় । পুলিশের সাথে ছাত্রদের ৩ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলতে থাকে কিন্তু পুলিশ গুলিবর্ষণ করেও ছাত্রদের স্থানচ্যূত করতে ব্যর্থ হয় ।

বেলা ৪টা ছাত্রদের মিছিলে গুলিবর্ষনের ঘটনা ঢাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার সাধারণ জনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে জড়ো হতে থাকে। গুলিবর্ষনের সংবাদ আইন পরিষদে পৌছালে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলার ছয়জন আইন পরিষদ সদস্য আইন পরিষদ সভা মুলতবী করে ঢাকা মেডিকেলে আহত ছাত্রদের দেখতে যাবার জন্য মূখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকে অনুরোধ করেন । সরকারী দলের সদস্য আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশও এই প্রস্তাবের সপক্ষে উচ্চকন্ঠ হন কিন্তু নুরুল আমিন সকল দাবি উপেক্ষা করে আইন পরিষদের অধিবেশন চালাবার নির্দেশ দেন । এর প্রতিবাদে পূর্ব বাংলার সদস্যরা পরিষদ থেকে ওয়াক আউট করেন। রাতের বেলা ছাত্র নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে ঢাকা শহরের প্রতিটি মসজিদে ও ক্লাবে পরদিন সকালে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমায়েত হবার আহবান সম্বলিত লিফলেট বিলি করা হয় ।

২২শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজে জানাজার পরে সংঘটিত মিছিল। হাজার হাজার ছাত্র জনতা সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হতে থাকে। উপস্থিত ছাত্র-জনতা ২১ ফেব্রুয়ারি নিহতদের স্মরণে কার্জন হল এলাকায় একটি জানাজা নামাজ আদায় করে এবং একটি শোকমিছিল বের করে। শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর পুলিশ পুনরায় গুলি চালালে শফিউর রহমানসহ চারজন ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরণ করেন । উত্তেজিত জনতা রথখোলায় অবস্থিত সরকারপক্ষীয় পত্রিকা “দি মর্নিং নিউজ ” এর অফিসে আগুণ ধরিয়ে দেয়। নুরুল আমিন পুলিশের পাশাপাশি আর্মি নামিয়ে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। আর্মি ও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা ভিক্টোরিয়া পার্ক (বর্তমানে বাহাদুর শাহ পার্ক) এ জমায়েত হয় এবং সেখানে অলি আহাদ,আব্দুল মতিন, কাজী গোলাম মাহবুব ব্ক্তব্য রাখেন।উপায়ন্তর না দেখে নুরুল আমিন তড়িঘড়ি করে আইন পরিষদে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আনেন এবং প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়। ২৩শে ফেব্রুয়ারি সমগ্র
পূর্ব-পাকিস্তানে স্বত:স্ফূর্তভাবে ধর্মঘট পালিত হয়। এর আগের দিন আইন পরিষদে রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত প্রস্তাব আনার পরেও নুরুল আমিনের পেটোয়া বাহিনী আন্দোলনকারীদের উপর দমন পীড়ন অব্যহত রাখে। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২৫ ফেব্রুয়ারীসমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়।রাতে ছাত্র-ছাত্রীরা বরকত শহীদ হওয়ার স্থানে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে একটি অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান শুরু করে।২৪শে ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টার সময় “শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের” নির্মানকাজ সমাপ্ত হয় এবং সকাল ১০টার দিকে শহীদ শফিউর রহমানের পিতাকে দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির ফলক উন্মোচন করা হয়। নুরুল আমিনের সরকার রাজপথে সর্বত্র সেনাবাহিনী এবং পুলিশ মোতায়েন করে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিবেশ স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয়। এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভাষা আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় সকল শীর্ষ নেতৃত্বকে গ্রেফতার করা হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি ছাত্র বিক্ষোভকে দমাতে ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় ।

২৬ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনার পুনরায় উদ্বোধন করেন আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন। সেই দিন বিকেলেই সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখে স্থাপিত “শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ” গুড়িয়ে দেয়। সরকারের দমন পীড়ন নীতিতে ঢাকায় ছাত্র আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে কিন্তু ঢাকার বাইরে আন্দোলন দানা বাধে। এবার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার পাশাপাশি বর্বর নুরুল আমিনের পদত্যাগের দাবী ওঠে ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগের কাছ থেকে।

৮ই এপ্রিল পাকিস্তান সরকার ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে পাকিস্তানের মুসলিম সংস্কৃতি থেকে বিচ্যুত করার লক্ষ্যে হিন্দু এবং কমিউনিস্টদের একটি চক্রান্ত হিসাবে অভিহিত করে । একই দিন প্রকাশিত একটি রিপোর্ট ছাত্রদের উপর পুলিশের গুলিবর্ষনের ঘটনার কোন যুক্তিসংগত কারণ দেখাতে ব্যর্থ হয়।

১৪ই এপ্রিল আইন পরিষদে পূর্ব বাংলার সদস্যরা ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনার পূর্ণ তদন্ত দাবি করেন এবং ২২ ফেব্রুয়ারি গৃহীত প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা করার ব্যাপারে দাবী উত্থাপন করলে আইন পরিষদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

১৬ই এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় খুলে দেয়া হয়।২৮ই এপ্রিল সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বার এসোসিয়েশন হলে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বক্তারা মিছিল সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সকল বন্দীর মুক্তি এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণার দাবী জানান।

১৯৫৩ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের এক বছর পূর্তিতে হাজার হাজার জনতা অস্থায়ীভাবে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে । সরকার সকল সভা সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করলেও ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ছাত্র-জনতা খালি পায়ে স্মৃতিস্তম্ভের নিকট সমবেত হন । এই দিন পূর্ব পাকিস্তানের জনগন শোকের প্রতীক হিসাবে কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়।

১৯৫৪ সালের ৩রা এপ্রিল মাওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট পূর্ব-পাকিস্তানের প্রাদেশিক শাসনভার গ্রহণ করে । ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব-বাংলার জনগণের যে জাগরণ শুরু হয় তার ফলেই প্রথমবারের মত মুসলিম লীগ বিতারিত হয় প্রাদেশিক সরকার হতে ।

৭ই মে ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্ট সরকারের উদ্যোগে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে একটি রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকার করে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে ।

১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর ভাষা আন্দোলনের ছাত্র-জনতার অন্যতম দাবী বাংলা একাডেমি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ।

১৯৫৬ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে তা সংবিধানের অন্তর্গত করার জন্য প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।

শহীদ বরকতের মা হাসিনা বেগম শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২।

২১শে ফেব্রুয়ারি প্রাদেশিক প্রধানমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার কর্তৃক শহীদ মিনারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন। ১৯৬৩ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম কর্তৃক এই শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ২৬শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান জাতীয় সংসদে বাংলা এবং উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধান পাশ করে ।
৩রা মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদানকারী পাকিস্তানের সংবিধান এইদিন থেকে কার্যকর হয় এবং ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে তমদ্দুন মজলিশের মাধ্যমে মায়ের ভাষায় কথা বলার যে আন্দোলনের শুরু হয়েছিল তার সাফল্য অর্জিত হয় ।

এরপর থেকে প্রত্যেক বছর এইদিনে শহীদের স্মরণে ২১শে ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা বাজার পর থেকে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে সম্মাননা জানানো হয় এবং ওইদিন সরকারি ছুটি হিসেবেও পালন করা হয়।

একুশে ফেব্রুয়ারি জাতির ঐতিহ্যময় ও গৌরবের ভাষা আন্দোলন।এর মূল্যবোধ এবং স্বাধীনতার উপর তার প্রকৃষ্ট প্রভাবঅনস্বীকার্য। কেবল তাই-ই  নয় ভাষার জন্য আন্দোলন করে এরূপ জীবন উৎসর্গ বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।

একুশে ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের জনগনের গৌরবজ্জ্বল একটিদিন।এটি আমাদের কাছে ঐতিহ্যময় শহীদদিবস।

বিগত একদশক ধরে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও সুপরিচিত সারাবিশ্বে।

জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষনাকরায় বাঙালি জাতির জন্য এই দিনটিএক গর্ব বয়ে এনেছে সুনিশ্চিত ভাবেই।

১৯৫২সালের এই দিনে (৮ফাল্গুন, ১৩৫৯) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপরপুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন দেশপ্রেমিক তরুণ ভাষার জন্য শহীদ হন। তাই এদিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেমহান মহীমায়।

যদিও এর শুরুটা হয় ১৯৪৭ সাল থেকে। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উর্দুকেই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা দেওয়া হয়।সে থেকে বিভিন্ন আন্দোলনের পরিক্রমা থেকে তা গড়াতে গড়াতে ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি The Basic Principles Committee of the Constituent Assembly of Pakistan পুনরায় উর্দুকেই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসাবে এ্যাসেম্বলীতেচূড়ান্ত নির্দেশনা প্রদান করা হয়।২৭শে জানুয়ারি ঢাকা সফররত পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্ণর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিনপল্টন ময়দানের সমাবেশে ঘোষণা করেন কেবল মাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। সাথে সাথে সমাবেশস্থলে তীব্র প্রতিক্রিয়াদেখা দেয়। শ্লোগান ওঠে “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই”। এই বক্তব্য সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।২৮শে জানুয়ারিঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। এই সমাবেশ থেকেনাজিমুদ্দিনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা ছাড়াও পূর্ব-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীপরিষদকে পশ্চিম পাকস্তানের হাতের পুতুলহিসাবে অভিহিত করা হয়।৩০শে জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিনের বক্তব্য ভাষা আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দান করে। ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এইদিন সর্বাত্মক ধর্মঘট পালিত হয়।একই দিন মাওলানাভাসানীর সভাপতিত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভাসানীর নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদেরপাশাপাশি আওয়ামী মুসলিম লীগের সরাসরি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৩১শে জানুয়ারি ভাসানীরসভপতিত্বে পূর্ব-পাকিস্তানের সকল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবিদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় । এই সম্মেলন থেকেকাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় । সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ২১ ফেব্রুয়ারী সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে সাধারণ ধর্মঘট আহবান করে।রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রদের মিছিল, ৪ঠা ফেব্রুয়ারিঢাকার নবাবপুর রোড। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের ডাকে ঢাকা শহরের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বত:স্ফূর্ত ধর্মঘট পালিত হয়। ছাত্ররাবাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার দাবীতে তখনকার সময়ের সবচেয়ে বড় একটি মিছিল নিয়ে রাজপথ প্রদক্ষিণ করে।১৮ইফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার ২১ই ফেব্রুয়ারি ডাকা সাধারণ ধর্মঘটের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৎসংলগ্ন এলাকায়১৪৪ ধারা জারি করে এবং সকল সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ২০শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ১৪৪ ধারাজারির পরিপ্রেক্ষিতে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এর উদ্যোগে আবুল হাশিম এর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় ।সভায় উপস্থিত সদস্যগণ ১৪৪ ধারা ভংগ করার ব্যাপারে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সভার একটি বড় অংশ ১৪৪ ধারাভংগের ব্যাপারে মত দিলেও অনেকেই এতে সহিংসতার আশঙ্কায় বিপক্ষে মত দেন ।

bhasa

২১শে ফেব্রুয়ারি

সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিমনেশিয়াম মাঠের পাশে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত) গেটের পাশে ছাত্র-ছাত্রীদের জমায়েত শুরু ।

সকাল ১১টায় কাজী গোলাম মাহবুব, অলি আহাদ, আব্দুল মতিন, গাজীউল হক প্রমুখের উপস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশশুরু । সমাবেশে ১৪৪ ধারা ভংগের ব্যাপারে ছাত্র নেতৃবৃন্দ এবং উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয় ।আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক সভায় উপস্থিত হয়ে ছাত্রদের ১৪৪ ধারা না ভাঙ্গার ব্যাপারে যুক্তিপ্রদর্শন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এস এম হোসেইন এর নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষক সমাবেশ স্থলে যান এবং ১৪৪ধারা ভংগ না করার জন্য ছাত্রদের অনুরোধ করেন ।

বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টা উপস্থিত ছাত্রনেতাদের মধ্যে আব্দুল মতিন এবং গাজীউল হক ১৪৪ ধারা ভংগের পক্ষে মত দিলেওসমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হন । এ অবস্থায় উপস্থিত সাধারণ ছাত্ররা স্বত:স্ফূর্তভাবে১৪৪ ধারা ভংগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং মিছিল নিয়ে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথহলের অন্তর্গত) দিকে যাবার উদ্যোগ নেয় । এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ এবং গুলি বর্ষণ শুরু করে । গুলিতে ঘটনাস্থলেই আবুলবরকত (ঢাবি এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর মাষ্টার্সের ছাত্র), রফিকউদ্দিন আহমদ, এবং আব্দুল জব্বার নামের তিন তরুণ মৃত্যু বরণকরেন । পরে হাসপাতালে আব্দুস সালাম যিনি সচিবালয়ে কর্মরত ছিলেন মৃত্যু বরণ করেন । অহিউল্লাহ নামে ৯ বছরের একটিশিশুও পুলিশের গুলিতে মারা যায় । পুলিশের সাথে ছাত্রদের ৩ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলতে থাকে কিন্তু পুলিশ গুলিবর্ষণ করেওছাত্রদের স্থানচ্যূত করতে ব্যর্থ হয় ।

বেলা ৪টা ছাত্রদের মিছিলে গুলিবর্ষনের ঘটনা ঢাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার সাধারণ জনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজেরসামনে জড়ো হতে থাকে। গুলিবর্ষনের সংবাদ আইন পরিষদে পৌছালে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলার ছয়জন আইনপরিষদ সদস্য আইন পরিষদ সভা মুলতবী করে ঢাকা মেডিকেলে আহত ছাত্রদের দেখতে যাবার জন্য মূখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকেঅনুরোধ করেন । সরকারী দলের সদস্য আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশও এই প্রস্তাবের সপক্ষে উচ্চকন্ঠ হন কিন্তু নুরুল আমিন সকলদাবি উপেক্ষা করে আইন পরিষদের অধিবেশন চালাবার নির্দেশ দেন । এর প্রতিবাদে পূর্ব বাংলার সদস্যরা পরিষদ থেকে ওয়াকআউট করেন। রাতের বেলা ছাত্র নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে ঢাকা শহরের প্রতিটি মসজিদে ও ক্লাবে পরদিন সকালে পুনরায় ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে জমায়েত হবার আহবান সম্বলিত লিফলেট বিলি করা হয় ।

২২শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজে জানাজার পরে সংঘটিত মিছিল। হাজার হাজার ছাত্র জনতা সকাল থেকেই ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হতে থাকে। উপস্থিত ছাত্র-জনতা ২১ ফেব্রুয়ারি নিহতদের স্মরণে কার্জন হল এলাকায় একটিজানাজা নামাজ আদায় করে এবং একটি শোকমিছিল বের করে। শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর পুলিশ পুনরায় গুলি চালালে শফিউররহমানসহ চারজন ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরণ করেন । উত্তেজিত জনতা রথখোলায় অবস্থিত সরকারপক্ষীয় পত্রিকা “দি মর্নিংনিউজ ” এর অফিসে আগুণ ধরিয়ে দেয়। নুরুল আমিন পুলিশের পাশাপাশি আর্মি নামিয়ে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণকরার চেষ্টা করে। আর্মি ও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা ভিক্টোরিয়া পার্ক (বর্তমানে বাহাদুর শাহ পার্ক) এ জমায়েতহয় এবং সেখানে অলি আহাদ,আব্দুল মতিন, কাজী গোলাম মাহবুব ব্ক্তব্য রাখেন।উপায়ন্তর না দেখে নুরুল আমিন তড়িঘড়িকরে আইন পরিষদে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আনেন এবং প্রস্তাবটিসর্বসম্মতভাবে পাশ হয়। ২৩শে ফেব্রুয়ারি সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে স্বত:স্ফূর্তভাবে ধর্মঘট পালিত হয়। এর আগের দিন আইনপরিষদে রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত প্রস্তাব আনার পরেও নুরুল আমিনের পেটোয়া বাহিনী আন্দোলনকারীদের উপর দমন পীড়নঅব্যহত রাখে। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২৫ ফেব্রুয়ারীসমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়।রাতে ছাত্র-ছাত্রীরা বরকত শহীদ হওয়ার স্থানে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে একটি অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান শুরু করে।২৪শেফেব্রুয়ারি ভোর ৬টার সময় “শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের” নির্মানকাজ সমাপ্ত হয় এবং সকাল ১০টার দিকে শহীদ শফিউর রহমানেরপিতাকে দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির ফলক উন্মোচন করা হয়। নুরুল আমিনের সরকার রাজপথে সর্বত্র সেনাবাহিনী এবং পুলিশমোতায়েন করে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিবেশ স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয়। এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভাষা আন্দোলনের সাথেসংশ্লিষ্ট প্রায় সকল শীর্ষ নেতৃত্বকে গ্রেফতার করা হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি ছাত্র বিক্ষোভকে দমাতে ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণাকরা হয় ।

২৬ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনার পুনরায় উদ্বোধন করেন আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন। সেই দিন বিকেলেইসেনাবাহিনী ও পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখে স্থাপিত “শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ” গুড়িয়ে দেয়। সরকারের দমন পীড়ন নীতিতেঢাকায় ছাত্র আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে কিন্তু ঢাকার বাইরে আন্দোলন দানা বাধে। এবার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণারপাশাপাশি বর্বর নুরুল আমিনের পদত্যাগের দাবী ওঠে ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগের কাছ থেকে।

৮ই এপ্রিল পাকিস্তান সরকার ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে পাকিস্তানের মুসলিম সংস্কৃতি থেকে বিচ্যুত করার লক্ষ্যে হিন্দু এবংকমিউনিস্টদের একটি চক্রান্ত হিসাবে অভিহিত করে । একই দিন প্রকাশিত একটি রিপোর্ট ছাত্রদের উপর পুলিশের গুলিবর্ষনেরঘটনার কোন যুক্তিসংগত কারণ দেখাতে ব্যর্থ হয়।

1449667397896ashx

১৪ই এপ্রিল আইন পরিষদে পূর্ব বাংলার সদস্যরা ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনার পূর্ণ তদন্ত দাবি করেন এবং ২২ ফেব্রুয়ারি গৃহীতপ্রস্তাবের ভিত্তিতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা করার ব্যাপারে দাবী উত্থাপন করলে আইন পরিষদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

১৬ই এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় খুলে দেয়া হয়।২৮ই এপ্রিল সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বারএসোসিয়েশন হলে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বক্তারা মিছিল সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সকল বন্দীরমুক্তি এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণার দাবী জানান।

১৯৫৩ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের এক বছর পূর্তিতে হাজার হাজার জনতা অস্থায়ীভাবেনির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে । সরকার সকল সভা সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করলেও ভাসানীর নেতৃত্বেআওয়ামী মুসলিম লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ছাত্র-জনতা খালি পায়ে স্মৃতিস্তম্ভের নিকট সমবেত হন । এই দিন পূর্বপাকিস্তানের জনগন শোকের প্রতীক হিসাবে কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অধিকাংশ দোকানপাটবন্ধ রাখা হয়।

১৯৫৪ সালের ৩রা এপ্রিল মাওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট পূর্ব-পাকিস্তানের প্রাদেশিক শাসনভার গ্রহণ করে । ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব-বাংলার জনগণের যে জাগরণ শুরু হয় তারফলেই প্রথমবারের মত মুসলিম লীগ বিতারিত হয় প্রাদেশিক সরকার হতে ।

৭ই মে ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্ট সরকারের উদ্যোগে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে একটি রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকার করে একটি প্রস্তাব গ্রহণকরে ।

১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর ভাষা আন্দোলনের ছাত্র-জনতার অন্যতম দাবী বাংলা একাডেমি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ।

১৯৫৬ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে তা সংবিধানের অন্তর্গতকরার জন্য প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।

শহীদ বরকতের মা হাসিনা বেগম শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২।

২১শে ফেব্রুয়ারি প্রাদেশিক প্রধানমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার কর্তৃক শহীদ মিনারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন। ১৯৬৩ সালের ২১ শেফেব্রুয়ারি শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম কর্তৃক এই শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ২৬শে ফেব্রুয়ারিপাকিস্তান জাতীয় সংসদে বাংলা এবং উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধান পাশ করে ।

৩রা মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদানকারী পাকিস্তানের সংবিধান এইদিন থেকে কার্যকর হয় এবং ১৯৪৭ সালেরসেপ্টেম্বরে তমদ্দুন মজলিশের মাধ্যমে মায়ের ভাষায় কথা বলার যে আন্দোলনের শুরু হয়েছিল তার সাফল্য অর্জিত হয় ।

এরপর থেকে প্রত্যেক বছর এইদিনে শহীদের স্মরণে ২১শে ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা বাজার পর থেকে শহীদ মিনারে ফুল দিয়েসম্মাননা জানানো হয় এবং ওইদিন সরকারি ছুটি হিসেবেও পালন করা হয়।

 url2

একুশে ফেব্রুয়ারি জাতির ঐতিহ্যময় ও গৌরবের ভাষা আন্দোলন।এর মূল্যবোধ এবং স্বাধীনতার উপর তার প্রকৃষ্ট প্রভাবঅনস্বীকার্য। কেবল তাই-ই  নয় ভাষার জন্য আন্দোলন করে এরূপ জীবন উৎসর্গ বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।

একুশে ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের জনগনের গৌরবজ্জ্বল একটিদিন।এটি আমাদের কাছে ঐতিহ্যময় শহীদদিবস।

বিগত একদশক ধরে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও সুপরিচিত সারাবিশ্বে।

জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষনাকরায় বাঙালি জাতির জন্য এই দিনটিএক গর্ব বয়ে এনেছে সুনিশ্চিত ভাবেই।

১৯৫২সালের এই দিনে (৮ফাল্গুন, ১৩৫৯) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপরপুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন দেশপ্রেমিক তরুণ ভাষার জন্য শহীদ হন। তাই এদিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেমহান মহীমায়।

যদিও এর শুরুটা হয় ১৯৪৭ সাল থেকে। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উর্দুকেই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা দেওয়া হয়।সে থেকে বিভিন্ন আন্দোলনের পরিক্রমা থেকে তা গড়াতে গড়াতে ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি The Basic Principles Committee of the Constituent Assembly of Pakistan পুনরায় উর্দুকেই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসাবে এ্যাসেম্বলীতেচূড়ান্ত নির্দেশনা প্রদান করা হয়।২৭শে জানুয়ারি ঢাকা সফররত পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্ণর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিনপল্টন ময়দানের সমাবেশে ঘোষণা করেন কেবল মাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। সাথে সাথে সমাবেশস্থলে তীব্র প্রতিক্রিয়াদেখা দেয়। শ্লোগান ওঠে “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই”। এই বক্তব্য সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।২৮শে জানুয়ারিঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। এই সমাবেশ থেকেনাজিমুদ্দিনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা ছাড়াও পূর্ব-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীপরিষদকে পশ্চিম পাকস্তানের হাতের পুতুলহিসাবে অভিহিত করা হয়।৩০শে জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিনের বক্তব্য ভাষা আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দান করে। ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এইদিন সর্বাত্মক ধর্মঘট পালিত হয়।একই দিন মাওলানাভাসানীর সভাপতিত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভাসানীর নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদেরপাশাপাশি আওয়ামী মুসলিম লীগের সরাসরি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৩১শে জানুয়ারি ভাসানীরসভপতিত্বে পূর্ব-পাকিস্তানের সকল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবিদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় । এই সম্মেলন থেকেকাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় । সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ২১ ফেব্রুয়ারী সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে সাধারণ ধর্মঘট আহবান করে।রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রদের মিছিল, ৪ঠা ফেব্রুয়ারিঢাকার নবাবপুর রোড। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের ডাকে ঢাকা শহরের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বত:স্ফূর্ত ধর্মঘট পালিত হয়। ছাত্ররাবাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার দাবীতে তখনকার সময়ের সবচেয়ে বড় একটি মিছিল নিয়ে রাজপথ প্রদক্ষিণ করে।১৮ইফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার ২১ই ফেব্রুয়ারি ডাকা সাধারণ ধর্মঘটের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৎসংলগ্ন এলাকায়১৪৪ ধারা জারি করে এবং সকল সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ২০শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ১৪৪ ধারাজারির পরিপ্রেক্ষিতে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এর উদ্যোগে আবুল হাশিম এর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় ।সভায় উপস্থিত সদস্যগণ ১৪৪ ধারা ভংগ করার ব্যাপারে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সভার একটি বড় অংশ ১৪৪ ধারাভংগের ব্যাপারে মত দিলেও অনেকেই এতে সহিংসতার আশঙ্কায় বিপক্ষে মত দেন ।

২১শে ফেব্রুয়ারি

সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিমনেশিয়াম মাঠের পাশে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত) গেটের পাশে ছাত্র-ছাত্রীদের জমায়েত শুরু ।

সকাল ১১টায় কাজী গোলাম মাহবুব, অলি আহাদ, আব্দুল মতিন, গাজীউল হক প্রমুখের উপস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশশুরু । সমাবেশে ১৪৪ ধারা ভংগের ব্যাপারে ছাত্র নেতৃবৃন্দ এবং উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয় ।আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক সভায় উপস্থিত হয়ে ছাত্রদের ১৪৪ ধারা না ভাঙ্গার ব্যাপারে যুক্তিপ্রদর্শন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এস এম হোসেইন এর নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষক সমাবেশ স্থলে যান এবং ১৪৪ধারা ভংগ না করার জন্য ছাত্রদের অনুরোধ করেন ।

বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টা উপস্থিত ছাত্রনেতাদের মধ্যে আব্দুল মতিন এবং গাজীউল হক ১৪৪ ধারা ভংগের পক্ষে মত দিলেওসমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হন । এ অবস্থায় উপস্থিত সাধারণ ছাত্ররা স্বত:স্ফূর্তভাবে১৪৪ ধারা ভংগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং মিছিল নিয়ে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথহলের অন্তর্গত) দিকে যাবার উদ্যোগ নেয় । এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ এবং গুলি বর্ষণ শুরু করে । গুলিতে ঘটনাস্থলেই আবুলবরকত (ঢাবি এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর মাষ্টার্সের ছাত্র), রফিকউদ্দিন আহমদ, এবং আব্দুল জব্বার নামের তিন তরুণ মৃত্যু বরণকরেন । পরে হাসপাতালে আব্দুস সালাম যিনি সচিবালয়ে কর্মরত ছিলেন মৃত্যু বরণ করেন । অহিউল্লাহ নামে ৯ বছরের একটিশিশুও পুলিশের গুলিতে মারা যায় । পুলিশের সাথে ছাত্রদের ৩ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলতে থাকে কিন্তু পুলিশ গুলিবর্ষণ করেওছাত্রদের স্থানচ্যূত করতে ব্যর্থ হয় ।

image_88_34713

বেলা ৪টা ছাত্রদের মিছিলে গুলিবর্ষনের ঘটনা ঢাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার সাধারণ জনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজেরসামনে জড়ো হতে থাকে। গুলিবর্ষনের সংবাদ আইন পরিষদে পৌছালে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলার ছয়জন আইনপরিষদ সদস্য আইন পরিষদ সভা মুলতবী করে ঢাকা মেডিকেলে আহত ছাত্রদের দেখতে যাবার জন্য মূখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকেঅনুরোধ করেন । সরকারী দলের সদস্য আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশও এই প্রস্তাবের সপক্ষে উচ্চকন্ঠ হন কিন্তু নুরুল আমিন সকলদাবি উপেক্ষা করে আইন পরিষদের অধিবেশন চালাবার নির্দেশ দেন । এর প্রতিবাদে পূর্ব বাংলার সদস্যরা পরিষদ থেকে ওয়াকআউট করেন। রাতের বেলা ছাত্র নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে ঢাকা শহরের প্রতিটি মসজিদে ও ক্লাবে পরদিন সকালে পুনরায় ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে জমায়েত হবার আহবান সম্বলিত লিফলেট বিলি করা হয় ।

২২শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজে জানাজার পরে সংঘটিত মিছিল। হাজার হাজার ছাত্র জনতা সকাল থেকেই ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হতে থাকে। উপস্থিত ছাত্র-জনতা ২১ ফেব্রুয়ারি নিহতদের স্মরণে কার্জন হল এলাকায় একটিজানাজা নামাজ আদায় করে এবং একটি শোকমিছিল বের করে। শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর পুলিশ পুনরায় গুলি চালালে শফিউররহমানসহ চারজন ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরণ করেন । উত্তেজিত জনতা রথখোলায় অবস্থিত সরকারপক্ষীয় পত্রিকা “দি মর্নিংনিউজ ” এর অফিসে আগুণ ধরিয়ে দেয়। নুরুল আমিন পুলিশের পাশাপাশি আর্মি নামিয়ে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণকরার চেষ্টা করে। আর্মি ও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা ভিক্টোরিয়া পার্ক (বর্তমানে বাহাদুর শাহ পার্ক) এ জমায়েতহয় এবং সেখানে অলি আহাদ,আব্দুল মতিন, কাজী গোলাম মাহবুব ব্ক্তব্য রাখেন।উপায়ন্তর না দেখে নুরুল আমিন তড়িঘড়িকরে আইন পরিষদে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আনেন এবং প্রস্তাবটিসর্বসম্মতভাবে পাশ হয়। ২৩শে ফেব্রুয়ারি সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে স্বত:স্ফূর্তভাবে ধর্মঘট পালিত হয়। এর আগের দিন আইনপরিষদে রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত প্রস্তাব আনার পরেও নুরুল আমিনের পেটোয়া বাহিনী আন্দোলনকারীদের উপর দমন পীড়নঅব্যহত রাখে। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২৫ ফেব্রুয়ারীসমগ্র পূর্ব-পাকিস্তানে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়।রাতে ছাত্র-ছাত্রীরা বরকত শহীদ হওয়ার স্থানে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে একটি অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান শুরু করে।২৪শেফেব্রুয়ারি ভোর ৬টার সময় “শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের” নির্মানকাজ সমাপ্ত হয় এবং সকাল ১০টার দিকে শহীদ শফিউর রহমানেরপিতাকে দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির ফলক উন্মোচন করা হয়। নুরুল আমিনের সরকার রাজপথে সর্বত্র সেনাবাহিনী এবং পুলিশমোতায়েন করে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিবেশ স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয়। এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভাষা আন্দোলনের সাথেসংশ্লিষ্ট প্রায় সকল শীর্ষ নেতৃত্বকে গ্রেফতার করা হয়।

21-02-1952

২৫ ফেব্রুয়ারি ছাত্র বিক্ষোভকে দমাতে ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণাকরা হয় ।

২৬ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনার পুনরায় উদ্বোধন করেন আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন। সেই দিন বিকেলেইসেনাবাহিনী ও পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখে স্থাপিত “শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ” গুড়িয়ে দেয়। সরকারের দমন পীড়ন নীতিতেঢাকায় ছাত্র আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে কিন্তু ঢাকার বাইরে আন্দোলন দানা বাধে। এবার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণারপাশাপাশি বর্বর নুরুল আমিনের পদত্যাগের দাবী ওঠে ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগের কাছ থেকে।

৮ই এপ্রিল পাকিস্তান সরকার ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে পাকিস্তানের মুসলিম সংস্কৃতি থেকে বিচ্যুত করার লক্ষ্যে হিন্দু এবংকমিউনিস্টদের একটি চক্রান্ত হিসাবে অভিহিত করে । একই দিন প্রকাশিত একটি রিপোর্ট ছাত্রদের উপর পুলিশের গুলিবর্ষনেরঘটনার কোন যুক্তিসংগত কারণ দেখাতে ব্যর্থ হয়।

১৪ই এপ্রিল আইন পরিষদে পূর্ব বাংলার সদস্যরা ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনার পূর্ণ তদন্ত দাবি করেন এবং ২২ ফেব্রুয়ারি গৃহীতপ্রস্তাবের ভিত্তিতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণা করার ব্যাপারে দাবী উত্থাপন করলে আইন পরিষদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

১৬ই এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় খুলে দেয়া হয়।২৮ই এপ্রিল সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বারএসোসিয়েশন হলে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বক্তারা মিছিল সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সকল বন্দীরমুক্তি এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষণার দাবী জানান।

১৯৫৩ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের এক বছর পূর্তিতে হাজার হাজার জনতা অস্থায়ীভাবেনির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে । সরকার সকল সভা সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করলেও ভাসানীর নেতৃত্বেআওয়ামী মুসলিম লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ছাত্র-জনতা খালি পায়ে স্মৃতিস্তম্ভের নিকট সমবেত হন । এই দিন পূর্বপাকিস্তানের জনগন শোকের প্রতীক হিসাবে কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অধিকাংশ দোকানপাটবন্ধ রাখা হয়।

১৯৫৪ সালের ৩রা এপ্রিল মাওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট পূর্ব-পাকিস্তানের প্রাদেশিক শাসনভার গ্রহণ করে । ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব-বাংলার জনগণের যে জাগরণ শুরু হয় তারফলেই প্রথমবারের মত মুসলিম লীগ বিতারিত হয় প্রাদেশিক সরকার হতে ।

৭ই মে ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্ট সরকারের উদ্যোগে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে একটি রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকার করে একটি প্রস্তাব গ্রহণকরে ।

১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর ভাষা আন্দোলনের ছাত্র-জনতার অন্যতম দাবী বাংলা একাডেমি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ।

film-home-1

১৯৫৬ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে তা সংবিধানের অন্তর্গতকরার জন্য প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।

শহীদ বরকতের মা হাসিনা বেগম শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২।

২১শে ফেব্রুয়ারি প্রাদেশিক প্রধানমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার কর্তৃক শহীদ মিনারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন। ১৯৬৩ সালের ২১ শেফেব্রুয়ারি শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম কর্তৃক এই শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ২৬শে ফেব্রুয়ারিপাকিস্তান জাতীয় সংসদে বাংলা এবং উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধান পাশ করে ।

৩রা মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদানকারী পাকিস্তানের সংবিধান এইদিন থেকে কার্যকর হয় এবং ১৯৪৭ সালেরসেপ্টেম্বরে তমদ্দুন মজলিশের মাধ্যমে মায়ের ভাষায় কথা বলার যে আন্দোলনের শুরু হয়েছিল তার সাফল্য অর্জিত হয় ।

এরপর থেকে প্রত্যেক বছর এইদিনে শহীদের স্মরণে ২১শে ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা বাজার পর থেকে শহীদ মিনারে ফুল দিয়েসম্মাননা জানানো হয় এবং ওইদিন সরকারি ছুটি হিসেবেও পালন করা হয়।

 CLICK HERE FOR MORE

BD Govt Job Circular Official Facebook Page

Please connect all time with us on Facebook : https://www.facebook.com/bdgovtjobspreparation/

Don’t Forget to like our facebook page Please.

প্রিয় বন্ধু, ভাই ও বোনের জন্য ফেসবুক ও টুইটারে শেয়ার করুণ আমাদের পেজটি।

Thank you

২০১৭ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি ও বিস্তারিত তথ্য

২০১৭ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি

Capture

২০১৭ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচী প্রকাশ হয়েছে। প্রকাশিত সময়সূচি অনুসারে ২রা এপ্রিল থেকে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে শুরু হবে এ পরীক্ষা। আপনাদের সুবিধার্থে উক্ত পরীক্ষার সময়সূচি নিচে তুলে দেওয়া হলোঃ

new

a

new

b (2)

new

c

আরও জানতে ক্লিক করুন এখানে।

 CLICK HERE FOR MORE 

BD Govt Job Circular Official Facebook Page

Please connect all time with us on Facebook : https://www.facebook.com/bdgovtjobspreparation/
Don’t Forget to like our Facebook page Please.

প্রিয় বন্ধু, ভাই ও বোনের জন্য ফেসবুক ও টুইটারে শেয়ার করুণ আমাদের পেজটি।

Thank you

1 2 3